মসজিদে নববির আদলে ছাতা বসানো হবে বায়তুল মোকাররমে
পবিত্র মদিনা শহরের মসজিদে নববির আদলে ঢেলে সাজানো হবে দেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম। খালি জায়গায় মসজিদে নববির আদলে ছাতা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য রীতিনীতি পালনের পরিবেশ তৈরির জন্য করা হবে উন্নয়ন ও সংস্কার। এক কথায় আন্তর্জাতিক মানের রূপ দেওয়া হবে মসজিদটি।
সৌদি আরবের মদিনা শহর সারা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য দ্বিতীয় পবিত্রতম শহর। হযরত মুহম্মদ (সা.) মসজিদে নববি তৈরি করে গেছেন এখানে। সেখানকার বিশাল উন্মুক্ত জায়গায় মসজিদের ওপরের পিলারগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে বিশালাকৃতির ছাতা। এই ছাতাগুলোর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এগুলো ভাজ করা যায়। এই ছাতা স্থাপনের ফলে স্বস্তি নিয়ে কম তাপমাত্রায় নামাজ পড়া যায়।
সৌদি আরব ও বাংলাদেশের আবহাওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। সব কিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। দেশ ও বিদেশের মসজিদ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) জানায়, মসজিদের পূর্ব ও উত্তরদিকে ৮০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট গেট তৈরিসহ মসজিদের পশ্চিম দিকে ২০ ফুট এবং উত্তর দিকে ৩৩ ফুট ওয়ার্কওয়ে নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৩০০ ফুট মিনার, চার তলাবিশিষ্ট অফিস ভবন, মসজিদে নামাজ আদায়ের বিভিন্ন অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানো এবং সাউন্ড সিস্টেমের উন্নয়ন করা হবে।
এছাড়া মসজিদের ভেতর ও বাইরে আলোকসজ্জার উন্নয়ন, লিফট সংযোজন, মসজিদের ভেতর শীতাতপ যন্ত্র (ভিআরএফ) স্থাপন, অডিটোরিয়ামের উন্নয়ন এবং মসজিদের দক্ষিণ ও পূর্বদিকের কার পার্কিংয়ের সংস্কারসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। তবে প্রকল্পের প্রস্তাবিত একটা ব্যয় ধরা হয়েছে। ব্যয় সামনে আরও বাড়তে পারে। কারণ বায়তুল মোকারম মসজিদ আন্তর্জাতিক মানের রূপ দিতে ঢেলে সাজানো হবে। এজন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হবে। দেশি-বিদেশি নান্দনিক মসজিদ পরিদর্শন করে আরও নান্দনিক করা হবে বায়তুল মোকারম।
ইফা জানায়, মসজিদ উন্নয়নে ১৩৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত ব্যয় কম বেশি হবে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পরে চার বছরে পুরো কাজ সম্পূর্ণ করা হবে।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারমের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ১৩৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের প্রস্তাবনা এরই মধেই পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। তবে ইফা’র প্রস্তাবিত প্রকল্পের বেশ কিছু খাতের ব্যয় কমানোর সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন।
অন্যান্য ভাতা, আপ্যায়ন খরচ, কুরিয়ার সার্ভিস বিল, অফিস ও স্টোর ভাড়া, আসবাবপত্র মেরামত ও সংরক্ষণ এবং ডিপিপি তৈরিসহ বিবিধ ব্যয় খাত বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন। এছাড়া জনবলের গ্রুপ বিমা খাতটিও বাদ দিতে বলেছে কমিশন।
প্রকল্পের আওতায় চুক্তিভিত্তিক গাড়ি সংগ্রহের ব্যয়, প্রচার ও বিজ্ঞাপন এবং বইপত্র ও সাময়িকী, মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ, কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি, ফটোকপিয়ার দুটির পরিবর্তে একটি এবং অফিস সরঞ্জাম খাতের ব্যয় অযৌক্তিক দাবি করেছে পরিকল্পনা কমিশন।
সম্পাদক ও প্রকাশক
বাংলার আলো মিডিয়া লিমিটেড
৮৯ বিজয় নগর, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম শরণি, আজিজ কো-অপারেটিভ মার্কেট (৫ম তলা)। ঢাকা-১০০০
নিউজঃ +৮৮ ০১৩৩২৫২৮২৪১ || [email protected] || বিজ্ঞাপণঃ +৮৮ ০১৩৩২৫২৮২৪৩ || [email protected]
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || banglaralo24.com