ঢাকা, ০৬ এপ্রিল, ২০২৫
Banglar Alo

প্রধান উপদেষ্টাকে কী পরামর্শ এনবিআরের

Publish : 11:47 AM, 05 April 2025.
প্রধান উপদেষ্টাকে কী পরামর্শ এনবিআরের

প্রধান উপদেষ্টাকে কী পরামর্শ এনবিআরের

নিজস্ব প্রতিবেদক :

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যে বড় অংকের শুল্ক বসানোর প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের মধ্যে যে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, সেখানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের তরফে সরকারি বিভিন্ন আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়ার পরামর্শ থাকছে।

এলএনজি ও গমসহ যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা সম্ভব এবং সরকারেরও প্রয়োজন তা সেখান থেকেই বাড়তি খরচ হলেও আমদানি করে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য এনবিআরের পরামর্শের বিষয়টি বলেছেন সংস্থার একজন কর্মকর্তা।

এনবিআরের নীতি শাখার এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এর বাইরে তারা কিছু পণ্যের তালিকা করে দিয়েছেন, যেগুলোর আমদানি শুল্ক কমানো যায়।

শনিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা জরুরি বৈঠকে বসেন। সেখানে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের উপদেষ্টা, বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

এদিন এনবিআরের নীতি শাখা যুক্তরাষ্ট থেকে আসা পণ্যের আমদানি পর্যায়ে কত শুল্ক রয়েছে, কোথায় কত প্যারা ট্যারিফ বা শুল্ক রয়েছে এবং তা থেকে কত শুল্ক আদায় হয় তা বিশ্লেষণ করে পর্যবেক্ষণ প্রস্তুত করেছে বলে এ কর্মকর্তা বলেছেন।

তার ভাষ্য, আমেরিকা থেকে যে পণ্য আমরা আনি, যেখানে বলা হয়েছে যে আমরা ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছি, এটা ভুল। আমাদের রিভিউ করে দেখা গেছে, আমাদের ইফেক্টিভ রেট হচ্ছে ৫ শতাংশেরও কম। তার মানে হচ্ছে, আপনি যদি ইমপোর্ট না বাড়ান, আর আপনি যদি ডিউটি (শুল্ক) জিরোও করে দেন, লাভ নাই।

দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে, ইমপোর্ট ডিউটি জিরো করলেও যে ইমপোর্ট বাড়বে তা কিন্তু না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের শতাধিক দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ৩৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের মুখোমুখি হবে।

এতদিন বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ছিল গড়ে ১৫ শতাংশ, যা এখন বেড়ে হল মোট ৫২ শতাংশ।

এ অবস্থায় এনবিআরের প্রস্তাবে কী রয়েছে, জানতে চাইলে সংস্থার এ কর্মকর্তা বলেন, আমরা কিছু প্রোডাক্টের লিস্ট বানিয়ে দিছি চেয়ারম্যান স্যারকে। সেখানে কিছু ডিউটি কমাতে হবে। আমরা ১০টার মত প্রোডাক্টের লিস্ট বানিয়ে দিছি। বাল্ব আছে, পাইপে ইউস করে, জেনারেটর, জেনারেটিং সেট, ইলেক্ট্রিক্যাল আইটেম এসব রয়েছে।

তবে এসব পণ্যের শুল্ক কমালেই যে আমদানি হবে সে নিশ্চয়তা নেই তুলে ধরে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে যদি ইমপোর্ট বাড়াতে হয় তাহলে গভমেন্টের কিছু ফোর্স ইমপোর্ট বাড়াতে হবে। যেমন গতবছর গভমেন্ট এলএনজি ইমপোর্ট করেছে, এ বছর করে নাই। এটা করতে পারে। গম, এগুলো ইউএসএ থেকে কিনতে পারে।

অন্য দেশ থেকে না এনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনায় খরচ বাড়বে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ফিজিবল কিনা চিন্তা করার সুযোগ নাই।

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির বাজার রক্ষায় এ পদক্ষেপ গ্রহণ করাই এ মুহূর্তে কার্যত সমাধান হতে পারে বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।

মার্কিন পণ্য থেকে কত শুল্ক পায় বাংলাদেশ?

বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৫ হাজার ৪০৭ কোটি টাকার ২৫ লাখ ৭৮ হাজার টন পণ্য আমদানি করেছে; যেখান থেকে আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব আদায় করেছে ১ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ গড়ে এসব পণ্যে বাংলাদেশ ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ শুল্ক আদায় করেছে।

ওই অর্থবছর বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি আমদানি করেছে স্ক্র্যাপ আয়রন। ৬ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ আয়রন আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ শুল্ক আদায় করেছে ২১০ কোটি টাকা।

আড়াই হাজার সিসির বেশি এবং তিন হাজার সিসির বেশি বা সমান নয় এমন ইঞ্জিনের ১১১টি গাড়ি আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ খরচ করেছে ৮০ কোটি টাকা; শুল্ক আদায় করেছে ১৫৪ কোটি টাকা।

ডিজেল বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভ আমদানি করা হয়েছে ৫২৪ কোটি টাকার; শুল্ক আদায় করা হয়েছে ১০৮ কোটি টাকা।

২০০১ থেকে ২৫০০ সিসি ইঞ্জিনের ৭০টি গাড়ি আমদানি করতে খরচ হয়েছে ৩১ কোটি টাকা; বিপরীতে শুল্ক আদায় হয়েছে ৪১ দশমিক ৬৮ কোটি টাকা।

আড়াই হাজার সিসির বেশি তিন হাজার সিসির কম, এমন ইঞ্জিনের ২৬টি গাড়ি আমদানি হয়েছে। আমদানি মূল্য ছিল ২০ কোটি টাকা; বিপরীতে শুল্ক আদায় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৮১ কোটি টাকা।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৫ লাখ ২ হাজার মেট্রিক টনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এসব পণ্যের আমদানি মূল্য ছিল ৩০ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা; বিপরীতে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক আদায় হয়েছে ১ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এসব পণ্যের বিপরীতে গড়ে ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ শুল্ক আদায় করেছে বাংলাদেশ।

ওই অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি শুল্ক আদায় করা পণ্যের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে স্ক্র্যাপ আয়রন। ৭ হাজার ৫৭১ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ আয়রন আমদানির বিপরীতে ২৩৬ কোটি টাকা শুল্ক আদায় হয়েছে।

একই অর্থবছরে ৭০২ কোটি টাকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করেছে বাংলাদেশ; বিপরীতে শুল্ক আদায় হয়েছে ১০৫ কোটি টাকার।

আড়াই হাজার সিসির বেশি এবং তিন হাজার সিসির বেশি বা সমান নয় এমন ইঞ্জিনের ৫২টি গাড়ি আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ খরচ করেছে ৪৩ কোটি টাকা; শুল্ক আদায় করেছে ৮৩ দশমিক ১৮ কোটি টাকা।

জ্বালানি তেল আমদানি করেছে ২৯৯ কোটি টাকার; শুল্ক আদায় হয়েছে ৬২ কোটি টাকা।

ডিজেল বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভ আমদানি করা হয়েছে ২২৭ কোটি টাকার; শুল্ক আদায় করা হয়েছে ৪৭ কোটি টাকা।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চ মাস পর্যন্ত প্রথম নয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ২৭ লাখ ৭১ হাজার টন পণ্য। এর আমদানি মূল্য ছিল ২২ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা এবং শুল্ক আদায় হয়েছে ১ হাজার ১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ গড়ে শুল্ক আদায় হয়েছে ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

Banglar Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক
বাংলার আলো মিডিয়া লিমিটেড

৮৯ বিজয় নগর, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম শরণি, আজিজ কো-অপারেটিভ মার্কেট (৫ম তলা)। ঢাকা-১০০০

নিউজঃ +৮৮ ০১৩৩২৫২৮২৪১ || [email protected] || বিজ্ঞাপণঃ +৮৮ ০১৩৩২৫২৮২৪৩ || [email protected]

©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || banglaralo24.com

Develop by _ DigitalSolutions.Ltd
শিরোনাম ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নিজেই কথা বলবেন প্রধান উপদেষ্টা শিরোনাম কেন দেশে ফিরছেন না তারেক রহমান, যা বললেন দুদু শিরোনাম মসজিদে নববির আদলে ছাতা বসানো হবে বায়তুল মোকাররমে শিরোনাম বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ভালো কিছু বয়ে আনবে: পার্থ শিরোনাম প্রধান উপদেষ্টাকে কী পরামর্শ এনবিআরের শিরোনাম উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন তামিম