ঢাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা মামলায় গ্রেফতার বুটেক্স শিক্ষার্থী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা মেহেরুন্নেসা সাহা (২৪)-এর আত্মহত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) শিক্ষার্থী সুনান তালুকদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রেমঘটিত আত্মহত্যা হতে পারে। তবে কেউ কেউ বলছেন, এর পেছনে বডি-শেমিং, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ইত্যাদিও থাকতে পারে। গত রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের মাকসুদ টাওয়ারের একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে আনিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আনিকা ও সুনানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কজনিত সমস্যা চলছিল। আনিকার এক বন্ধু জানান, মৃত্যুর দুই দিন আগে আনিকা বলেছিলেন, সুনান আমার জীবনটা শেষ করে দিচ্ছে। আমার আর আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় নেই।
আনিকার বিভাগের বন্ধু মিথুন জানান, আনিকার আত্মহত্যার পেছনে সুনানের বড় ধরনের প্রভাব আছে। ২২ ফেব্রুয়ারি আনিকার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। সে বলছিল, ‘সুনান আমার জীবনটা এমন অবস্থায় নিয়ে গেছে যে, ‘আমার আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’ পরে আমি তাকে অনেক বুঝিয়েছিলাম। তিনি আরও বলেন, আনিকা আমাদের বিভাগের অন্যতম মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। সবসময় প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় অবস্থানে থাকত। পাশাপাশি, সে বিতার্কিকও ছিল। তার একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল। সে আত্মহত্যার মতো মেয়ে ছিল না। আমরা চাই, তার আত্মহত্যার পেছনে যার হাত থাকুক না কেন, তার যেন সঠিক বিচার হয়।
সুনানের এক সহপাঠী জানান, আনিকা ও সুনানের মধ্যে দীর্ঘদিন সম্পর্ক ছিল, যেখানে নানা সমস্যা লেগেই থাকত। মেয়েটি অনেক বেশি আবেগপ্রবণ ছিল। আগেও একবার সে ভিডিও কলে এসে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে হাত কেটেছিল। আনিকা পারিবারিক ও রাজনৈতিক হয়রানির কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল।
তবে ৫ আগস্টের পর থেকে আনিকার ফেসবুক পোস্ট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে তাদের বাড়িঘরে হামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানাভাবে হয়রানির কারণে তিনি হতাশায় ভুগছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে তিনি নিয়মিত পোস্ট করতেন।
৫ আগস্টের এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, যে দেশের জন্য আমি আন্দোলন করেছি, সেই দেশ আমার পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে পারলো না। তোরা আমার লাশের উপর দিয়ে মিছিল নিয়ে যাস। ঘটনার পর ঢাবি ও বুটেক্স শিক্ষার্থীরা সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করছেন। এক পক্ষ সুনানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছে, তবে কয়েকজন মনে করছেন, আনিকার আত্মহত্যার পেছনে রাজনৈতিক হতাশাও ভূমিকা রাখতে পারে।
সুনানের পরিবারের পক্ষ থেকে তার বড় বোন জানান, তাদের মধ্যে প্রেমজনিত কোনো বড় সমস্যা ছিল না। এমনকি দুই পরিবারই তাদের সম্পর্কের বিষয়ে জানত এবং বিয়ের কথাও হয়েছিল। তাই আমার মনে হয় না, আনিকার মৃত্যুর পেছনে আমার ভাইয়ের কোনো ভূমিকা আছে। ওকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। আমরাও চাই, আনিকার আত্মহত্যার আসল রহস্য উন্মোচিত হোক এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষী শাস্তি পাক।
উল্লেখ্য ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে আনিকার রুমমেট দরজা না খোলার বিষয়টি সুনানকে ফোনে জানালে, সে তৎক্ষণাৎ সেখানে যায়। তবে তাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে আনিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
সুনানের এক বন্ধু বলেন, আমরা চাই, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং কোনো নিরপরাধ যেন সাজা না পায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক
বাংলার আলো মিডিয়া লিমিটেড
৮৯ বিজয় নগর, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম শরণি, আজিজ কো-অপারেটিভ মার্কেট (৫ম তলা)। ঢাকা-১০০০
নিউজঃ +৮৮ ০১৩৩২৫২৮২৪১ || [email protected] || বিজ্ঞাপণঃ +৮৮ ০১৩৩২৫২৮২৪৩ || [email protected]
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || banglaralo24.com